শনিবার, ১৩ Jun ২০২৬, ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দিন দিন পাবনার রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। পরস্পরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জামায়াতে ইসলামী। এ অবস্থায় সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পাবনা সদর ও সাঁথিয়ায় কেন্দ্রীয় এবং বিভাগীয় কর্মসূচি ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মিছিল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টাকালে পুলিশ পাঁচ জামায়াত-শিবিরের কর্মীকে আটক করেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গগ সাড়ে ১৪ বছরে বিএনপি বা চারদলীয় জোট রাজনৈতিকভাবে তাদের আধিপত্য বা অবস্থান জানান দিতে পারেনি। এর মূলে ছিল বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতি। দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শহরের দুই প্রান্তে অবস্থান নেওয়ায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ একক আধিপত্য বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। যখন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন রাজপথে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, ঠিক সেই সময় বিএনপির গৃহদাহে পুড়ছে দলীয় নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি পালনে নিজেদের মধ্যেই উত্তেজনা, চেয়ার ছোড়াছুড়ি, মারধরসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। এ সময় কোণঠাসা জামায়াতে ইসলামী ছিল নিষ্ক্রিয়। আর এক সময়ের ক্ষমতাসীন দলের বিরোধী দল খ্যাত জাতীয় পার্টির সক্রিয়তা ছিল না বললেই চলে।
তথ্য মতে, ২৯ জুলাই পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি চলাকালে আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় কমপক্ষে সাতজন আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় চেয়ারসহ আসবাবপত্র। এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ২১ জুলাই পাবনার আরিফপুর সদর কবরস্থানে বিএনপির প্রচারপত্র বিলিকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর করা হয় যুবলীগ জেলা আহ্বায়ক সনি বিশ্বাসের ছোট ভাই পনি বিশ্বাসের গাড়ি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরদিন রাতে বিএনপি ও যুবদলের নেতাদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে যুবলীগ জড়িতÑ এমন অভিযোগ বিএনপির।